কামালের ক্রয়কৃত ম্যাটাডর কলমটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা সদৃশ কিন্তু সামান্য পৃথকীকৃত (Similar but slightly differentiated) দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয় ঐ বাজারকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে কোনো ফার্ম যদি নিজের পণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে ক্রেতা অপর ফার্মের পরিবর্তক দ্রব্য কেনে। এক্ষেত্রে প্রথম ফার্মের পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, তবে চাহিদা কখনও শূন্য হয় না। এ বাজারের পণ্যসমূহ হলো- কলম, সাবান, টুথপেস্ট প্রভৃতি। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত পণ্যটি হলো কলম। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কলম আছে। সেগুলোকে রং, ডিজাইন এবং সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে একটি কোম্পানির কলমের দাম বাড়লে ক্রেতা অন্য কোম্পানির কলম ক্রয় করবে। কাজেই বলা যায়, কলম হচ্ছে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য।
Related Question
View Allএকটি মাত্র দ্রব্য উৎপাদন করে এমন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলে
যে বাজারে দ্রব্যের চাহিদার পরিবর্তনের সাথে যোগান সামান্য পরিবর্তিত হয় তাকে স্বল্পকালীন বাজার বলে।
মাকালীন বাজারের স্থায়ীত্বকাল কম হয়, তাই এ সময়ের মধ্যে স্থির খরচসমূহ (কারখানার আয়তন বা সংখ্যা) পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তনীয় খরচসমূহ (উপকরণের পরিমাণ) হ্রাস-বৃদ্ধি করে, দ্রব্যের উৎপাদন কম-বেশি করা যায়। এ বাজারে দ্রব্যের দাম, যোগানের চেয়ে চাহিদা দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। গামছা, লুঙ্গি ও শাড়ি প্রভৃতি স্বল্পকালীন বাজারের পণ্য।
কামালের ক্রয়কৃত পণ্যের বাজারটি হলো একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার। নিম্নে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সর্ম্পক বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা, সমজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত থাকে, তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। আর যে বাজারে কিছু বিক্রেতা সম্পূর্ণ এক না হলেও প্রায় একই ধরনের দ্রব্য বিক্রয় করে তাকে একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। উভয় বাজারেই ক্রেতা ও বিক্রেতার পক্ষে সহজে বাজারে প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ রয়েছে। উদ্দীপকের কামালের ক্রয়কৃত কলমটি একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারের পণ্য। এ বাজারে বিক্রির জন্য যে কলমগুলো সরবরাহ করা হয়, সেগুলো ব্র্যান্ড, রং, ডিজাইন এবং নামের ভিন্নতার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। তাছাড়া এরূপ বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিক্রেতা সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, পূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং একচেটিয়া বাজারের কতিপয় বৈশিষ্ট্য একযোগে দেখা যায়। একচেটিয়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ফার্ম যে দ্রব্যগুলো উৎপাদন করে, সেগুলোর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। আর এই দ্রব্যের পৃথকীকরণের মধ্যে একচেটিয়া বাজারের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আবার বহু ক্রেতা-বিক্রেতা থাকায় পূর্ণ প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্যও পরিলক্ষিত হয়।
যেহেতু একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার দুটি ভিন্ন বাজারের সমন্বয়ে গঠিত, তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে এককভাবে একচেটিয়া
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যেসব বস্তু বা সেবাকর্মের প্রয়োজন সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।
উৎপাদিত দ্রব্যের পৃথকীকরণ বলতে বোঝায় বাজারে বিভিন্ন ফার্ম যে নির্দিষ্ট দ্রব্যটি উৎপাদন করে সেটি গুণগত ও বাহ্যিকভাবে একটি অপরটি থেকে পৃথক।
বিভিন্ন ফার্মের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো অনেকটা সদৃশ হলেও একটি অপরটির পরিবর্তক (তবে পূর্ণ পরিবর্তক নয়) হতে পারে। বিক্রেতা বিজ্ঞাপন ব্যয়, প্যাকিং, ডিজাইন, সামান্য নামের ভিন্নতার মাধ্যমে উৎপন্ন দ্রব্যের প্রভেদীকরণ করে। যেমন- প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের বাজার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রিমির ক্রয়কৃত পণ্যটি (নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ব্যাগ) হলো একচেটিয়া বাজারের পণ্য।
যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও একজন মাত্র বিক্রেতা বা উৎপাদক থাকে এবং পণ্যটির কোনো নিকট পরিবর্তক থাকে না, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে। সাধারণত এ বাজারে এককভাবে বিক্রেতা বা উৎপাদক তার ইচ্ছামতো দ্রব্যের দাম ও যোগান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাছাড়া উৎপাদক যে দ্রব্যটি উৎপাদন ও বিক্রয় করে সে দ্রব্যের তেমন কোনো পরিবর্তক দ্রব্য নেই। যেমন- বাংলাদেশে তিতাস গ্যাস, অক্সিজেন ইত্যাদির বাজার। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রিমি যে ব্র্যান্ডের ব্যাগটি ব্যবহার করে সেটির দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। রিমি বেশি দাম দিয়েই ব্যাগটি কিনল। কারণ, নির্দিষ্ট কোম্পানি ছাড়া উক্ত ব্যাগটি অন্য কোনো কোম্পানি বাজারে সরবরাহ করে না। তাই কোম্পানি ইচ্ছা অনুসারে ব্যাগের দাম বাড়াতে পারে। কাজেই বলা যায়, রিমির ক্রয়কৃত ব্যাগটি একচেটিয়া বাজারের পণ্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!